
মেথি একটি ভেষজ মৌসুমী গাছ। মেথি সবাই চেনেন। মেথি স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। শুধু শরীর নয়, ত্বক ও চুলের যত্নেও খুবই কার্যকরী এক উপাদান হলো মেথি। রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখা থেকে শুরু করে রক্তচাপ ও ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ, চুল পড়া রোধ, রক্তাল্পতার সমস্যায় মেথি ‘সুপার ফুড’ হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
মেথি তিতা স্বাদযুক্ত একটি মসলা। এতে রয়েছে রক্তের চিনির মাত্রা কমানোর বিস্ময়ক শক্তি ও তারুণ্যে ধরে রাখার বিস্ময়কর এক ক্ষমতা। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে দূষিত পরিবেশ এবং ভেজাল খাবারের রাজ্যে সুস্থভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব, যদি প্রতিদিন মেথি খাওয়া যায়। যা নানা দিক দিয়ে শরীর গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আমরা প্রতিদিন কিছু না কিছু সমস্যায় পড়তেই হচ্ছে।
যার সমাধানে প্রতিনিয়ত মরিয়া হয়ে উঠতে হচ্ছে। তবে সে সমস্যাগুলোর সমাধানও আমাদের হাতের কাছে। যেটা না জানার কারণে সমস্যার সহজ সমাধান আমরা খুঁজে পাই না। যদি রক্তে চিনি বেড়ে গিয়ে থাকে মানে ডায়াবেটিসের জন্য মিষ্টি বন্ধ, দিনদিন বুড়িয়ে যাওয়া হয়। তাহলে এর চমৎকার একটি সমাধান হলো প্রতিদিন সকালে খালি পেটে একগ্লাস মেথির পানি। এটি খেলে শরীরে ফিরবে শক্তি। হার্টও থাকবে ভালো।
প্রতিদিন পরিমিত মেথির রস খেলে পুরুষের যৌনক্ষমতা বাড়ে। মেথিতে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন, ফাইবার, আয়রন, পটাসিয়াম, ভিটামিন সি ও নিয়াসিন। ত্বককে রাখে সতেজ, টানটান বার্ধক্য দূরে ঠেলে তারুণ্যকে দীর্ঘস্থায়ী করে। ভেজা পরিষ্কার কাপড়ে মেথিদানা গুঁড়ো করে ফোড়া, পোড়া ও বিভিন্ন চর্মরোগে ব্যবহার করলে উপকার মেলে। মুখের ব্রণ,
১. মেথিতে আছে প্রাকৃতিক তন্তু, যা ওজন কমাতে বেশ কার্যকর। দিনে দুই-তিনবার মেথি চিবাতে থাকলে বেশি না খেলেও পেট ভরা মনে হবে। যাঁরা ওজন কমাতে চান, তাঁরা মেথি কাজে লাগাতে পারেন।
২. শীত একটু একটু করে আসছে। বাড়ছে সর্দিকাশিও। নিয়মিত মেথি খেলে সর্দিকাশি পালাবে। লেবু ও মধুর সঙ্গে এক চা-চামচ মেথি মিশিয়ে খেলে জ্বর পালাবে। মেথিতে মিউকিল্যাগ নামের একটি উপাদান আছে, যা গলাব্যথা সারাতে পারে। অল্প পানিতে মেথি সেদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে গড়গড়া করলে গলার সংক্রমণ দূর হয়।
৩. চুল পড়া ঠেকাতে মেথি খেলে উপকার পাওয়া যায়। মেথি সেদ্ধ করে সারা রাত রেখে তার সঙ্গে নারকেল তেল মিশিয়ে নিয়মিত মাথায় মাখলে চুল পড়া কমে।
৪. অন্ত্রের নড়াচড়া বৃদ্ধি করে মেথি। যাঁদের পেট জ্বালা বা হজমে সমস্যা আছে, তাঁরা নিয়মিত মেথি খেতে পারেন। এতে ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে, যা শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান দূর করে।
৫. রক্তে চিনির মাত্রা কমানোর অসাধারণ এক শক্তি থাকায় ডায়াবেটিস রোগের জন্য খুব ভালো এই মেথি।
৬. মেথি আয়রনসমৃদ্ধ হওয়ায় রক্তস্বল্পতা, অর্থাৎ অ্যানিমিয়া রোগের পথ্য হিসেবে কাজ করতে পারে।
৭. মাতৃদুগ্ধ বাড়াতে ওষুধের বিকল্প হলো মেথি। সদ্য মা হওয়া নারীর জন্য মেথি উপকারী।
৮. ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করে মেথি, বিশেষ করে স্তন ও কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য মেথি কার্যকর। মেনোপজ হলে নারীর শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন আসে।
৯. মেথি পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে সক্ষম। শুধু ডায়াবেটিস নয় মেথি বেঁটে চুলে লাগালে চুল পড়া কমে, চুল ঘন হয়। খুসকি কমে, চুল হয় আরও উজ্জ্বল।
১০. কালো দাগ, ফুসকুড়ি উধাও হয়। মেথি খেলে স্ট্রোকের প্রবণতা অনেকটা কমে যায়। সকালে খালি পেটে মেথিদানা চিবিয়ে খেলে ওজন কমে।
১১. মেথি নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে, মেথিতে প্রচুর পরিমাণে লেসিথিন রয়েছে যা চুলের গোড়ায় পুষ্টি যোগায় এবং চুলের বৃদ্ধিতে ও চুল গজাতে কার্যকরী। ১ টেবিল চামচ মেথি এবং ১ চা চামচ সরিষা দানা পাউডার করে নিন। ২-৩ টেবিল চামচ কুসুম গরম পানিতে এই পাউডার ১ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। এতে ১ চা চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে মিহি পেস্ট তৈরী করুন।
প্রতিদিন সকালে খালি পেটে মেথি চিবিয়ে বা একগ্লাস পানিতে মেথি মিশিয়ে খান। ৬ মাসের বেশি মেথি খাওয়া যাবে না। কারণ, বেশি মেথি খেলে কিছু সাইড এফেক্ট হতে পারে। ডায়ারিয়া। অন্ত:সন্তা নারী ও শিশুদের মেথি না খাওয়াই ভালো।






















আপনার মতামত লিখুন :