গরিবের ভালোবাসা…


সময়ের খবর ডেস্ক প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১৩, ২০২৩, ৮:০৩ অপরাহ্ন /
গরিবের ভালোবাসা…

“সত্য ঘটনা”
জন্মের পরে বাবা-মা দুজনেই একটি বাস দুর্ঘটনায় মারা যায়। একজন ভিক্ষুক মায়ের কাছে থেকে বড় হই। আমরা একটি বাড়িতে থাকি। ভিক্ষুক মা আমাকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেয়। সে একা আমার পড়াশোনা ও সংসার চালাতে পারছিল না। তাই পড়াশোনার ফাকে ফাকে ফারুক চাচার কাছ থেকে রিকশা ভারাই নিয়ে চালিয়ে মাকে কিছুটা সাহায্য করি। যখন এসএসসি পরীক্ষা দিলাম। তখন পরীক্ষায় বৃত্তি পেয়েছিলাম। কলেজে ভর্তি হলাম। তখন আমার একটা মেয়ের সাথে বন্ধুত্ত হয়। সেও আমাকে পছন্দ করে। মা আমাকে স্কুলের অন্যদের মতই জামাকাপড় পড়িয়ে পাঠাতেন।মেয়েটির নাম মাইশা । সে আমাকে বড়লোকের ছেলে মনে করত। তাই সে আমার সাথে প্রেম করত।

বাড়িতে গিয়ে মাকে বললাম,” মা আমি একজনকে ভালোবাসি আর সেও আমাকে ভালোবাসে”তারপরের দিন কলেজে গিয়ে জানতে পারলাম মাইশা আমার আসল পরিচয় জানতে পেরে, আমি গরীব অসহায় ভিক্ষুকের সন্তান হিসেবে মাইশা আমার থেকে কেটে পড়ে, আমার মা মাইশাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করতে চাইছিল মাইশা আমার মাকে চিনে মাকে ধাক্কা মারল। আমি মাকে জড়িয়ে ধরে অসহায়ের মতোই গরিবের কপালে ভালোবাসা জোটে না এটা ভেবেই মাকে নিয়ে ওখান থেকে চলে আসি। তারপরের দিন মাইশাকে দেখি অন্য একটি ছেলের সাথে ঘুরতে। সেইদিন আমি নিজেকে খুব অসহায় উপোভোগ করলাম। আজ আমি পড়াশোনা করে এখন আমি একজন উকিল। মা আমাকে বিয়ে দেওয়ার জন্ন পাত্রি খুজছেন। মা ইন্টারনেটে তা লিখেছেন। একজন আমাদের বাড়ীতে আসেন। আমরাও তাদের বড়িতে যাই। গিয়ে দেখি ঐ মেয়েটি হলো সেই মাইশা!

আমি ওর চোখের দিকে তাকিয়ে কাঁদতে থাকি, আর ভাবতে থাকি, সেদিন অসহায় বলে মাকে ধাক্কা দিয়ে চলে গিয়েছিলে আজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছি বলে আমাকে তোমার যোগ্য পাত্র মনে হয়েছে, কলেজ জীবনে আমাকে ত্যাগ করেছিল তার জন্য দুঃখ না পেলেও আমার মাকে ধাক্কা দিয়ে অপমান করেছিল সেই কষ্টে একবার দেখে দ্বিতীয়বার তার দিকে না তাকিয়ে মাকে নিয়ে চলে এসেছি সোজা বাড়িতে। পত্র-পত্রিকায় দেখি আমার মতই অনেক নিরীহ মায়ের সন্তানদের গল্প
বিসিএস এ উত্তীর্ণ চা বিক্রেতা বিসিএস এ উত্তীর্ণ চা বিক্রেতা বিসিএস ক্যাডার পেপার বিক্রেতা, যখন চায়ের দোকান আর পেপার বিক্রি করে তখন হয় গরিবের ভালোবাসা। আর যখন বিসিএস ক্যাডার হয় সমাজের উচ্চ স্থান অধিকার করে তখন হয়ে যায় বুঝি বড় লোকের ভালোবাসা। হায়রে গরীবের দুনিয়া।