কবুতর পালনের সঠিক পদ্ধতি


সময়ের খবর ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ১৪, ২০২৩, ১১:২০ অপরাহ্ন /
কবুতর পালনের সঠিক পদ্ধতি

কবুতর পালনের আগে,আপনার যদি যথেষ্ট ধৈর্য থাকে আর আপনার যদি মনে হয় আপনি অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত তাহলেই কেবল আপনি পারবেন আর তা না হলে এই চিন্তা করতেও যাবেন না। অন্যের দেখাদেখি কবুতর পালতে যাবেন না বা মানুষ কে এই কথা বলার জন্যও না যে আপনি দামি কবুতর পালেন।

বা আপনার মনে যদি এই চিন্তা আসে যে অমুকে কবুতর পেলে অনেক টাকা কামাচ্ছে তাহলে আমি কেন পারব না? আপনার এহেন চিন্তা থেকেই বলতে পারি আপনি পারবেন না। এই প্রাণীটির প্রতি যদি আপনার ভালবাসা বা ভাললাগা না থাকে তাহলে এই চিন্তা মাথা থেকে ঝেরে ফেলুন, আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি আপনি এক্ষেত্রে ব্যর্থ হবেনই হবেন। কোন সন্দেহ নাই তাতে। আর যদি ধৈর্য সহকারে মনোবল রেখে ত্যাগ স্বীকার করে পালন করতে পারেন নিশ্চয়ই আপনি কবুতর পালন করে লাভবান হবেন।

তাহলে উত্তম নিষ্কাশন, পর্যাপ্ত সূর্যের আলো এবং বাতাস চলাচল আছে এরকম উঁচু এবং বালুময় মাটিতে কবুতরের ঘর করতে হয়। যা খামারির আবাসস্থল থেকে ২০০ থেকে ৩০০ ফুট দুরে ও দক্ষিণমূখী হওয়া উচিত। মাটি থেকে ঘরের উচ্চতা ২০ থেকে ২৫ ফুট এবং খাচার উচ্চতা ৫ থেকে ৭ ফুট হওয়া ভালো। একটি খামারের জন্য ৩০ থেকে ৪০ জোড়া কবুতর আদর্শ।

কবুতর কেনার আগে ভাল করে এর পায়খানা পরীক্ষা করে নিবেন, মুখের ভিতর পরীক্ষা করবেন, হাতে ধরে দেখে নিবেন যে এর শারীরিক অবস্থা কেমন? যদিও অনেক সময় একজন বিক্রেতা যে খাঁচায় ড্রপিং ভাল সে খাঁচায় রেখে দেখানোর চেষ্টা করেন যে কবুতরটা সুস্থ। এর পরও অনেক সময় নানা কারনে নতুন জায়গাই আসার পর পরিবেশ, খাবার, ভ্রমন ইত্যাদি কারনে একটু অসুস্থ হয়ে যেতে পারে, আর এ জন্য এ সম্পর্কে কিছু প্রাথমিক ধারনা নিতে হবে।

রোগ চিকিৎসার ক্ষেত্রে একজন অভিজ্ঞ লোকের পরামর্শ নিবেন তা না হলে নানা জনে আপনাকে না উপদেশ দিয়ে বিভ্রান্ত করে ফেলবে। ফলে সেটা আপনার জন্য একটা কাল হয়ে দাঁড়াবে। কবুতরের খামার রোগমুক্ত রাখার সহজ কৌশল আমাদের দেশের অনেক কবুতর পালনকারীরাই জানেন না। আমাদের দেশে অনেকেই শখের বসে আবার অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে কবুতর পালন করে থাকেন। তবে যে কারণেই কবুতর পালন করা হোক না কেন কবুতর পালন করে লাভবান হওয়ার জন্য খামারকে রোগমুক্ত রাখা সবচেয়ে জরুরী।

১. কবুতরের খামারে তৈরি করার পর কিংবা আগে থেকেই কবুতরের খামার থাকলে নতুন করে খামারে কবুতর উঠানোর পূর্বে খামার ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। একই সাথে ভালো কোন জীবাণুনাশক ওষুধ প্রয়োগ করে দিতে হবে। এতে খামারের কবুতর সহজে রোগে আক্রান্ত হবে না।

২. কবুতরের খামারে ভিতরে কোনভাবেই বাইরের লোকজন কিংবা প্রাণীদের প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। যদি প্রবেশ করাতেই হয় তাহলে যথাযথভাবে জীবাণুমুক্ত করে তারপর প্রবেশ করাতে হবে।

৩. খামারের কবুতরের রোগ সময়মতো প্রতিরোধ করতে হবে। রোগের পূর্বে কিংবা রোগের ধরণ অনুযায়ী প্রতিষেধক প্রদান করতে হবে। এতে খামারের কবুতরগুলো রোগে আক্রান্ত কম হবে।

৪. খামারের কোনো কবুতর রোগের দ্বারা আক্রান্ত হলে দ্রুত খামার থেকে কবুতরটি সরিয়ে আলাদা করে ফেলতে হবে। আর কোন কবুতর মারা গেলে সেটিকে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে।

৫. খামারের সার্বিক অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

৬. অতিরিক্ত শীতে বেশি পাওয়ারের লাইট জ্বালিয়ে রাখতে হবে এবং অতিরিক্ত গরমে ফ্যান চালাতে হবে। না হয় অতিরিক্ত গরমে ঘামিয়ে ঠান্ডা লাগতে পারে।