সরকারি চাকরি জীবিদের পেনশন হিসাব করার সহজ পদ্ধতি


সময়ের খবর ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ১৩, ২০২৩, ৪:৩৭ অপরাহ্ন /
সরকারি চাকরি জীবিদের পেনশন হিসাব করার সহজ পদ্ধতি

দীর্ঘদিন সফলতার সঙ্গে চাকরি করা একটা বিরাট চ্যালেঞ্জের বিষয়। দীর্ঘ বছর সকল চ্যালেঞ্জকে জয় করে যেতে হয় পেনশনে। সেই হিসাবটি তো সবারই জানা দরকার?

একদম সহজে আপনি কিভাবে পেনশন হিসাব বের করবেন?

আপনি এই আর্টিকেলটি পড়লে পেনশন হিসাব সম্পর্কে আর কোন চিন্তা করতে হবে না। কথায় আছে কষ্ট না করলে ইষ্ট মিলে না ,সবরের ফল মিষ্টি। আমাদের প্রানপ্রিয় মানুষ গড়ার কারিগর শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগন অতি কষ্টে তারা শিক্ষার্থীদের আলোর পথের সন্ধান দেখিয়ে দেয়। সেই শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগনদের পেনশন নিয়ে আজকের এই বিষয় একটু শেয়ার করব।

পেনশন হিসাব বের করা খুবই একটি কঠিন ব্যাপার নয়। শুধু মাত্র মূল বেতন কে বেইজ ধরে পেনশন হিসাব করতে হয়। পেনশন রেট আনুতোষিক বা এককালীন হিসেব বের করা জানলেই একজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী উনার পেনশন টা বের করা সহজ হয়ে যাবে।
সহজভাবে পেনশন হিসাব করতে গেলে বলতে হয় বেসিক যা তার কাছাকাছি এককালীন আসবে এবং বেসিক বা মূল বেতন এর অর্ধেকর ৯০% মাসিক বেতন এ আসবে।

একটি উদাহরণ এর সাহায্যে আমি বিষয় গুলো সহজ করার চেষ্টা করব সাথে থাকুন।
ধরুন জনাব মোহাম্মদ আলী সাহেব ০৫/১২/১৯৮০ খ্রি. তারিখ এ চাকুরিতে যোগদান করেন এবং তিনি ০১/০৬/২০০৮ খ্রি . তারিখ এ চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি মোট চাকরি করেছেন ২৭ বছর ০৫ মাস ১৭ দিন । তিনি বিনা বেতনে কোন ছুটি ভোগ করেনি । তার সর্বশেষ আহরিত মূল বেতন ৩০,০০০ টাকা।এখন তিনি ল্যাম্পগ্ৰান্ড,আনুতোষিক,মাসিক পেনশন ভাতা কত টাকা পাবেন তা একটু উদাহরণ এর সাহায্যে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব ।

পেনশন হিসাব করার নিয়ম
ল্যাম্পগ্ৰান্ড, আনুতোষিক, পেনশন কত তা জানার আগে আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে ল্যাম্পগ্ৰান্ড, আনুতোষিক পেনশন কি।
ল্যাম্পগ্ৰান্ড হচ্ছে যা পেনশন বা পি আর এল এর শুরুতে এককালীন পাওয়া যায়। তবে এটা নির্ভর করে ঐ ব্যক্তির ছুটি পাওয়ানা থাকার উপর যত মাসের ছুটি পাওয়ানা ততো মাসের বেসিক একত্রে পাওয়ার নাম ই হচ্ছে ল্যাম্পগ্ৰান্ড।

+( তবে এটা সর্বোচ্চ ১৮ মাসের বেশি নয়).
ল্যাম্পগ্ৰান্ড বের করার পদ্ধতি বা সূত্র:
ল্যাম্পগ্ৰান্ড: শেষ বেসিক × চাকুরীতে অর্জিত ছুটি ( সর্বোচ্চ ১৮ মাস).
=২৮০০০×১৮ =৫৪০,০০০ টাকা।
এই টাকা মোহাম্মদ আলী সাহেব ল্যামগ্ৰান্ড হিসেবে পাবেন। এখন আমি গ্ৰাচুইটি / আনুতোষিক এর হিসাব আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম:

পি আর এল শেষে সরকারি চাকুরিজীবীরা যে টাকা পান সেটাই হচ্ছে গ্ৰাচুইটি / আনুতোষিক।
গ্ৰাচুইটির সূত্র বা গ্ৰাচুইটি বের করার পদ্ধতি:
( শেষ বেসিক × শতকরা হার) ÷২×বাধ্যতামূলক সমর্পিত আনুতোষিক
=(২৯,২০০×৯০%)÷২×২৩০
=(২৬,২৮০÷২)×২৩০
=৩,০৩২,০০০টাকা।
পি,আর ,এল এ থাকার সময়ে একটি ইনক্রিমেন্ট যোগ হয়ে শেষ বেসিক হয় ২৯,২০০ টাকা হয়।

আরেকটি বিষয় হচ্ছে পেনশন এ টেবিল এর নিয়ম অনুযায়ী কেউ যদি ২৫ বছর এর উর্ধ্বে চাকরি করেন তাহলে তিনি ৯০% এর বেশি পেনশন পাওয়ার যোগ্য । এখানে জনাব মোহাম্মদ আলী সাহেব ২৭ বছর এর উর্ধ্বে চাকরি করেছেন তাই তিনি ৯০%‌ এর বেশি পেনশন পাওয়ার যোগ্য।
তিনি বাধ্যতামূলক আনুতোষিক পেনশন ও পাবেন ২৩০ টাকা করে। কেননা তিনি বাধ্যতামূলক আনুতোষিক পেনশন এর নিয়ম অনুযায়ী ২০ বছর এর উর্ধ্বে চাকরি করেছেন।
এভাবে তিনি ৩,০৩২,০০০ টাকা পাবেন এককালীন পি,আর , এল এ।
এখন আমি আপনাদের সাথে পেনশন এর হিসাব কিভাবে বের করেন তা একটু শেয়ার করব।

পেনশন হলো সরকারি চাকুরীজীবিদের অবসরের পর প্রত্যেক মাসে যে টাকা পাবেন তা পেনশন। পেনশন এর হিসাব কিভাবে বের করবেন তা দেখানো হলো:
পেনশন= ( শেষ বেসিক × শতকরা হার)÷২+চিকিৎসা ভাতা।
=(২৯,২০০×৯০%)÷২+১৫০০
=(২৬,২৮০÷২)+১৫০০
=১৩,১৪০+১৫০০
=১৪,৬৪০ টাকা।

এই ভাবে আপনাদের সরকারি চাকরির পেনশন এর হিসাব করতে পারবেন ।এই হিসাব টি সূত্র মোতাবেক করলে আপনার পেনশন এর হিসাব পেয়ে যাবেন।
এছাড়াও ২ টি উৎসব ভাতা পাবেন
বৈশাখী ভাতা বেসিক এর ২০% অর্থাৎ ১৩,১৪০ টাকা।
৬৫ বছর এর উর্ধ্বে চিকিৎসা ভাতা ১৫০০ এর স্থলে ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌২৫০০ টাকা।এই নিয়ম টা ১/৭/২০১৬ খ্রি, তারিখ এ কার্যকর হয়েছে। মনে রাখতে হবে পরবর্তীতে চাকরিরত অবস্থায় একজন মৃতবরনকারী ও চাকরিতে স্থায়ীভাবে অক্ষমচাকরীজীবির পেনশন হিসেবে সংযোজন করা হবে।

চাকরিকাল অনুসারে পেনশন এর হার ৫-২৫ এবং পেনশন এর হার সর্বশেষ আহরিত মূল বেতন এর স্থলে ৮০% এর স্থলে৯০% এ উন্নীত হয়েছে।ফলে বর্তমানে চাকুরী কাল ৫ বছর হলেই আপনি পেনশন এর আওতায় আসবেন।( এটি কেবল অক্ষম , অযোগ্য, মৃত‌চাকরীজীবি পরিবার পেনশন এর প্রযোজ্য।) তবে পাঁচ বছর চাকুরীর সময় পূর্ণ হলে আর যদি মারা যান তাহলে সেই শিক্ষক, এর পরিবার মাত্র ৩ টি বেসিক জি,পি,এফ পাবেন।

মনে রাখতে হবে আপনি যদি স্থুস্থ্য , চাকরি করার সক্ষমতা থাকে তাহলে চাকরি ২৫ বছর সফলতার সাথে শেষ না করা পর্যন্ত অবসরে যাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

চাকরির কাল ও পেনশন হিসাব:
৫ বছর ২১% পাবেন।
৬ বছর ২৪% পাবেন।
৭ বছর ২৭% পাবেন।
৮ বছর ৩০% পাবেন।
৯ বছর ৩৩% পাবেন।
১০ বছর হলে ৩৬% পূর্বের হার ছিল ৩২%।
১১ বছর হলে ৩৯%আগের হার ছিল ৩৫%।
১২ বছর ৪৩% আগের হার ছিল ৩৫%.।
১৩ বছর হলে ৪৭% আগের হার ছিল ৪২%।
১৪ বছর হলে ৫১%আগের হার ছিল ৪৫%।
১৫ বছর হলে ৫৪%প্রাপ্ত হবেন।
১৬ বছর হলে ৫৭%প্রাপ্ত হবেন, আগের হার ছিল ৫১%।
১৭ বছর হলে ৬৩%প্রাপ্ত হবেন আগের হার ছিল ৫৪%।
১৮ বছর হলে ৬৫% প্রাপ্ত হবেন আগের হার ছিল ৫৮%।
১৯ বছর হলে ৬৯%প্রাপ্ত হবেন আগের হার ছিল ৬১%।
২০ বছর হলে ৭২% প্রাপ্ত হবেন আগের হার ছিল ৬৪%।
২১ বছর হলে ৭৫%প্রাপ্ত হবেন আগের হার ছিল ৬৭ %।
২২ বছর হলে ৭৯% প্রাপ্ত হবেন আগের হার ছিল ৭০%।
২৩ বছর হলে ৮৩% প্রাপ্ত হবেন আগের হার ছিল ৭৪%।
২৪ বছর হলে ৮৭% প্রাপ্ত হবেন আগের হার ছিল ৭৭%।
২৫ বছর হলে ৯০% প্রাপ্ত হবেন আগের হার ছিল ৮০%।

জিপিএফ ব্যালেন্স চেক করার নিয়ম
জিপিএফ ব্যালেন্স ক্যালকুলেট করার নিয়ম
আইবাস++ থেকে জিপিএফ ব্যালেন্স চেক করার নিয়ম।