ময়ূর পালনে হতে পারে লাভজনক


সময়ের খবর ডেস্ক প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ১৫, ২০২২, ১:০৬ পূর্বাহ্ন /
ময়ূর পালনে হতে পারে লাভজনক

সময়ের খবর ডেস্ক।
করোনায় অনুকূল পরিবেশ পেয়ে প্রজনন বৃদ্ধি পাওয়ায় ঢাকা জাতীয় চিড়িয়াখানায় এখন ধারণক্ষমতার বেশি ময়ূর। এ জন্য ৮৮টি ময়ূর বিক্রি করেছে কর্তৃপক্ষ। খামারি ও শৌখিন লোকজন ময়ূরগুলো কিনে নিয়েছে।দেশে শৌখিন ও খামার পর্যায়ে ময়ূর পালন বেড়েছে। এ সুযোগ করে দিয়েছে ঢাকার জাতীয় চিড়িয়াখানা। প্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের আবহাওয়া ময়ূর লালন-পালনের উপযোগী। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পাখিটি গ্রামের মানুষও স্বাচ্ছন্দ্যে লালন-পালন করতে পারবে। এতে কর্মসংস্থান, আয়-রোজগার বাড়বে।
মূলত চিড়িয়াখানায় ময়ূরের প্রজনন বেড়ে গিয়ে ধারণক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় তারা ময়ূর বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। গত বছরের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮৮টি ময়ূর বিক্রি করে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। জোড়াপ্রতি দাম রাখা হয় ৫০ হাজার টাকা। অন্তত ১৫ জেলায় গেছে জাতীয় চিড়িয়াখানার এই ময়ূর।চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, করোনার সময়ে অনুকূল পরিবেশ পাওয়ায় ময়ূরসহ অন্য বেশ কিছু প্রাণীর প্রজনন ভালো হয়েছে। তাতে অন্তত আট প্রজাতির প্রাণী চিড়িয়াখানার প্রয়োজনের তুলনায় বেড়ে গেছে। মযূর বিক্রি করা হয়েছে। বাকি বাড়তি প্রাণীগুলো দেশের অন্য চিড়িয়াখানা ও সাফারি পার্কে স্থানান্তর ও বিনিময় করা হবে।চিড়িয়াখানার সূত্র জানায়, বর্তমানে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ১৫০টির মতো বিভিন্ন বয়সের ময়ূর তাদের কাছে আছে। গত পাঁচ মাসে ১৫টি জেলায় বিভিন্ন রিসোর্ট, বাসাবাড়ি ও খামারে ময়ূর বিক্রি করা হয়েছে। বেশির ভাগ শৌখিন ক্রেতা এক জোড়া করে ময়ূর নিয়েছেন। পাঁচ মাসে ২২ লাখ টাকার ময়ূর বিক্রি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, তবে আপাতত আর ময়ূর বিক্রি করা হবে না। পাঁচ-ছয় মাস পর ডিম ফোটালে তখন আবার ময়ূর বিক্রি করা হবে। বড়বাড়ির বাসিন্দা মো. এমদাদুল হক। তিনি গত সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে চিড়িয়াখানা থেকে এক জোড়া ময়ূর নেন। এমদাদুল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ময়ূর জোড়া ভালো আছে। গ্রামের মানুষ প্রথম দিকে খুব ভিড় করেছিল। এখনো অনেকে দেখতে আসে।’ তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, ময়ূর শুধু শখে নয়, বাণিজ্যিকভাবে পালন করে সফল হওয়া সম্ভব।
কক্সবাজার সেন্ট মার্টিনের দি আটলান্টিক রিসোর্টের ম্যানেজার হেদায়েত উল্লাহ জানালেন, নভেম্বরে চিড়িয়াখানা থেকে দুটি ময়ূর রিসোর্টে আনা হয়েছে। এগুলো দেখে অতিথিরা আনন্দ পাচ্ছে। সামনে ময়ূরের সংখ্যা বাড়ানো হবে।জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা. আব্দুল লতিফ সময়ের খবরকে বলেন, ‘প্রায় ৫০টির মতো খামার তাদের কাছ থেকে ময়ূর নিয়েছে। এগুলো থেকে আরও ময়ূর হবে। আশা করছি, পাঁচ বছর পর ময়ূর গ্রামগঞ্জে মুরগির মতো ছড়িয়ে পড়বে।’ তিনি বলেন, ময়ূরের মাংস হালাল ও সুস্বাদু। তবে এখন মযূরের মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ। একসময় হয়তো এটা সর্বজনীনভাবে অন্যান্য প্রাণীর মাংসের মতো খাওয়ার প্রচলন হবে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ময়ূরের মাংস বেশ সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর। ময়ূরের পালক অনেকের প্রিয়। যারা কোনো দিন ময়ূর দেখেনি তারাও এদের পালকের খুব ভক্ত। মৎস্য শিকারিরা মাছ ধরার ছিপের সঙ্গে ময়ূরের পালক ব্যবহার করে থাকে। পালক দিয়ে তৈরি করা হয় মেয়েদের ভ্যানিটি ব্যাগ, বিভিন্ন অলংকার, টেবিল ম্যাট, ওয়াল ম্যাট, নকশা করা হাতপাখাসহ নানা ধরনের শোপিস। ময়ূরের পালকের তৈরি গাউন অনেক উন্নত দেশে বিশেষভাবে পরিচিত। এই গাউনের সঙ্গে পালকের তৈরি বিভিন্ন গয়নাও পরা হয়। ময়ূরের পায়ের চামড়া দিয়ে তৈরি হয় ঘড়ির বেল্ট, চাবির তোড়া ও মানিব্যাগ।রাজধানীর মোহাম্মদপুরের পূর্ব তাজমহল রোডের সি-ব্লকের বাসিন্দা বুলবুল আহমেদ বলেন, ‘দুই জোড়া ময়ূর এনেছি। কেউ চাইলে এগুলো পালন করেও ভালো উপার্জন করতে পারবে।’জাতীয় চিড়িয়াখানার পাখি শাখার প্রধান ওবায়দুর রহমান সময়ের খবরকে বলেন, দেশে ময়ূর পালনের ভবিষ্যৎ ভালো মনে হচ্ছে। যে কেউ খামার করে এটি পালন করে লাভবান হতে পারেন।ময়ূরের বৈশিষ্ট্য : পাঁচ-ছয়টি স্ত্রী ময়ূরের সঙ্গে একটি পুরুষ ময়ূর থাকে। এরা মাটিতে চলাফেরা করলেও বেশির ভাগ সময় গাছের ডালে থাকতে পছন্দ করে। বছরে ১০-১৫টি ডিম দেয়। ডিম থেকে ছানা ফুটতে ২৭-৩০ দিন সময় লাগে। ময়ূরের গড় আয়ু ১২-১৫ বছর। ময়ূর সাধারণত দুই জাতের। একটি নীল, অন্যটি সবুজ। বাংলাদেশে নীল ময়ূর নেই। বিশ্বে মাঝেমধ্যে সাদা ময়ূরও দেখতে পাওয়া যায়।লালন-পালন : আবদ্ধ অবস্থায় লালন-পালনের ক্ষেত্রে এদের নিয়মিত গম, ধান, সবজি, বীজ ইত্যাদি খেতে দিতে হয়। পেঁপে, তরমুজসহ অন্যান্য পাকা ফলও এদের প্রিয় খাদ্য। খোলা স্থানে ময়ূর পালন করলে এগুলো উড়ে যাবে, আবার ছোট খাঁচা হলে এরা চলাচল করতে পারবে না। তাই ময়ূর পালনের জন্য অবশ্যই বড় আকারের খাঁচা নির্মাণ করতে হবে। খাঁচার উচ্চতাকমপক্ষে আট ফুট হওয়া উচিত। খাঁচা খিলান আকৃতির হলে ভালো। ময়ূর মাটি থেকে কিছুটা ওপরে বিশ্রাম নেয়, তাই পাঁচ-ছয় ফুট উঁচু মাচা কিংবা গাছের ডাল দিতে হয়। ময়ূর যখন পেখম মেলে তখন তার জন্য প্রায় সাত-আট ফুট জায়গা লাগে, তাই খাঁচার প্রস্থ ৯ থেকে ১০ ফুট হলে ময়ূর সুস্থ ও সুন্দর থাকবে।খাঁচার এক প্রান্তে থাকবে খোঁয়াড়, যা রোদ, বৃষ্টি, ঠাণ্ডা থেকে ময়ূরকে রক্ষা করবে। খোঁয়াড়টি হতে হবে পরিষ্কার, শুষ্ক ও জীবাণুমুক্ত।